Thursday, December 15, 2005

September on Jessore road -Allen Ginsberg

কিছু কিছু লোকের কাছে কিছু চাইলেই সারা দুনিয়া খুজেঁ বের করে নিয়ে আছে। সজল তাদের একজন। আমি Allen Ginsberg's এঁর September on Jessore road কবিতার অনুবাদ চাইছিলাম। সজল মাত্র একদিন সময় নিল — তারপর নিজে হাতে টাইপ করে সাথে নিজের লেখা দিয়ে পাঠালো। এদের জন্যে কোন কাজ পিছিয়ে থাকে না। ধন্যবাদ সজলকে।
যাই হোক, আমি গিন্সবার্গ সম্পর্কে আগ্রহ হই মুক্তির গান প্রামাণ্য দেখার পরে, টালসাতে আনোয়ার ভাই গিন্সবার্গ সম্পর্কে বলার পরে; আরো জানতে পারি আমার প্রিয় Wikipedia পড়ে। নিচে কবিতাটির অনুবাদ ছাপানো হলঃ

নিউইয়র্ক, নভেম্বর ১৪-১৬, ১৯৭১
অনুবাদঃ শুভঙ্কর দাশ
যশোর রোডে সেপ্টেম্বর
-অ্যালেন গিন্সবার্গ

লক্ষ লক্ষ বাচ্চারা চেয়ে আছে আকাশের দিকে
পেট ফুলে ঢোল, বড় বড় গোল গোল চোখে
যশোর রোডের উপর লম্বা বাঁশেদের কুঁড়ে
হাগার কোনো জায়গা নেই তাই বালির নালাপথ জুড়ে

লক্ষ লক্ষ বাবা বরষায়
লক্ষ লক্ষ মা যাতনায়
লক্ষ লক্ষ ভাই দুঃখ-দুর্দশায়
লক্ষ লক্ষ বোন কোথাও যাওয়ার নেই নিরুপায়
দশ লক্ষ পিসীমা মরে যাচ্ছে রুটির জন্য
দশ লক্ষ পিসেমশাই বিলাপ করছে মৃতের জন্য
পিতামহ লক্ষ লক্ষ বাস্তুহারা বিষ ণ্নদল
মাতামহ লক্ষ লক্ষ নিঃশব্দে পাগল
লক্ষ লক্ষ কন্যা কাদায় হাঁটছে
লক্ষ লক্ষ বাচ্চা বন্যার জলে নাইছে
দশ লক্ষ বালিকা বমি করছে, কাতরাচ্ছে যন্ত্রণায়
লক্ষ লক্ষ একা পরিবার আশাহীনতায়
লক্ষ লক্ষ আত্মা উনিশশো একাত্তর
যশোর রোডে ঘরহীন উপরে সূর্য ধূসর
দশ লক্ষ মারা গেছে, আর যারা পারছে
পূর্ব পাকিস্তান থেকে কোলকাতার দিকে হাঁটছে
ট্যাঙ্েিত সেপ্টেম্বর যশোর রোড ধরে
জীর্ণ গরুর গাড়ি টানছে কাঠকয়লা ভরে
জল ভর্তি মাঠ পেরিয়ে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া নালাপথে
গাছের গুঁড়িতে ঘুঁটে, কুঁড়েঘর প্লাস্টিক সাঁটা ছাতে
ভিজে মিছিলের সারি পরিবারগুলো হাঁটছে
বৃদ্ধি থামিয়ে ফেলা সমস্ত বালক বড় বড় মাথা কথা কইতে নারছে দেখ হাড় বের হওয়া মাথা আর নিঃশব্দ চোখ গোল গোল মানুষের ছদ্মবেশে অভুক্ত কালো দেবদূতের দল
উঁচু হয়ে বসে মা কাঁদছে আর আঙুল তুলে দেখাচ্ছে তার পোলাপান সরু সরু পায়ে তারা দাঁড়িয়ে আছে যেন বয়স্ক নান ছোট্ট শরীরখানা মুখের কাছে হাত দুটোর প্রার্থনা
পাঁচ মাস সামান্য খাবার যবে থেকে তারা এখানে বেঁধেছে আস্তানা
একটা মাদুরে ছোট এক ফাঁকা বাটি নিয়ে
দু'হাত তুলে বাবা তাদের দিকে ধরে এগিয়ে
ওদের মা'র চোখে জল এসে যায়
মা মায়া কাঁদে যন্ত্রণায়
দুটো বাচ্চ্া একসাথে নারকেল পাতার ছাতের আশ্রয়ে
একদৃষ্টে তাকিয়ে আমার দিকে বিনা বাক্য ব্যয়ে
চাল তাও মেপে, মুসুর ডাল একবারই সপ্তাহান্ত
গুঁড়ো দুধ নরম শিশুদের যারা রণক্লান্ত
কোনো সবজি নেই টাকা অথবা পুরুষের জন্য কোনো কাজ
চাল চারদিন চলে খায় যতক্ষণ খাওয়া জোটে আজ
তারপর উপোশ করে বাচ্চারা পরপর তিনদিন একটানা
আর পরের খাওয়া বমি করে ধীরে খেতে পারে তা যদি না
যশোর রোডে মা কেঁদেছে আমার পায়ে পড়ে
বাংলায় বলেছে বাবু দয়া করে
পরিচয় নির্দেশক কার্ড মেঝেয় ছেঁড়া পড়ে আছে
স্বামী তখনও অপেক্ষায় ক্যাম্প অফিসের দরজার কাছে
শিশুটা খেলছিল আর আমি নাইছিলাম বন্যার জলে
এখন আর ওরা আমাকে খাওয়ার দেবে না বলে
টুকরোগুলো এখানেই আছে আমার সেলুলয়েড খাপে
নির্দোষ শিশুর খেলা আমাদের মৃতু্য অভিশাপে
দুটো পুলিশকে ঘিরে রেখেছে ছেলেরা কয়েক হাজার
ভিড় করে অপেক্ষায় প্রতিদিনকার আনন্দে রুটির আহার
বড় বড় বাঁশি আর লম্বা বাঁশের লাঠি হাতে
বাড়ি মেরে ঠিক লাইনে রাখবে ক্ষুধার্তরা বাগড়া দেয় তাতে
লাইন ভেঙে লাফিয়ে আসছে সামনের দিকে চলে
বৃত্তের মাঝখানে চুপি চুপি একটা বেঁটেখাটো হাড়গিলে

দু'ভাই নেচে মাটির মঞ্চের দিকে সামনে এগোলো
পাহারাদারেরা বাঁশি বাজিয়ে রাগে তেড়ে গেল

কেন ও শিশুদের এইখানে দলবদ্ধ করা হয়েছে
খেলে হাসছে আর জায়গার জন্য গুঁতোগুঁতি করছে
এখানে এ্যাত সানন্দ অপেক্ষা কেন, কেন এ্যাত ভয়
কারণ এই সেই বাড়ি যেখানে শিশুদের রুটি দেওয়া হয়
রুটি দেওয়ার দরজা দিয়ে লোকটা বেরিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো
হাজার হাজার ছেলেমেয়ে তার সুরে সুর মেলালো
একী আনন্দ? একী প্রার্থনা 'আজ রুটি শেষ'
হাজার শিশুর চিত্‍কার ওঠে 'আহা বেশ, বেশ'
বাড়ির দিকে দৌডোও তাঁবুতে বড়রা যেখানে অপেক্ষায় আছে
বার্তাবহ বাচ্চারা সরকারি রুটি নিয়ে কাছে
আজ আর রুটি নেই উবু হয়ে বসার জায়গা নেই আর
যন্ত্রণার শিশু, অসুস্থ আর আছে হাগার ভার
মাসের পর মাস অপুষ্ট করোটি হাজারে হাজারে
পেট খারাপের পায়খানা নেমে যাচ্ছে সমস্ত একবারে

নার্স রোগের কার্ড দেখায় এনট্রোস্টেপ
স্থগিত হওয়া দরকার আর নাহলে ক্লোরোস্টেপ
রিফিউজি ক্যাম্প সব হাসপাতালের কুঁড়ে ঘরে
সদ্যজাত শিশু মা'র সরু কোলে উলঙ্গ আছে পড়ে
বাতগ্রস্ত বাঁদরের সাইজের সপ্তাখানেকের বাচ্চার চোখ
পেটের রোগে, রক্ত বিষিয়ে মারা পড়ে কয়েক হাজার লোক

যশোর রোডে রিঙ্ায় সেপ্টেম্বরে
৫০,০০০ আত্মাকে আমি দেখেছি একটা শিবিরে
সারিবদ্ধ বাঁশের কুঁড়েঘর বন্যায়
খোলা ড্রেন আর ভিজে পরিবার খাবারের অপেক্ষায়

আসতে পারছেনা খাদ্য জল পেরিয়ে বর্ডার ট্রাকগুলো জলে ভরে
মার্কিনী যন্ত্রদেবদূত দ্রুত এসো দয়া করে
কোথায় আজ রাষ্ট্রদূত বাঙ্কার?
ক্রীড়ারত বাচ্চাদের মেশিনগান দিয়ে গুলি করে মারছে কী তার হেলিকপ্টার?
মার্কিনী সাহায্যের হেলিকপ্টাগুলো কোথায়?
মাদক পাচার করছে ব্যাংককের সবুজ ছায়ায়
কোথায় আলোর বিমান বাহিনীরা মার্কিন?
উত্তর লেওসে বোম ফেলছে সারারাত সারাদিন?

রাষ্ট্রপতির সোনার সেনাদল কোথায়
ধনাঢ্য নৌবহর সাহসী সদয়
আমাদের জন্য ওষুদ আনবে খাদ্য উপশম
ইাপাম বোমা ফেলে তৈরী করছে আরো দুঃখ দুর্দশার উত্তর ভিয়েতনাম
আমাদের কান্ন্াগুলো কোথায়? কে কাঁদে এই যন্ত্রণায়৷

কোথায় যাবে এই পরিবারগুলো এই বরষায়?
যশোর রোডের বাচ্চারা তাদের বড় বড় চোখ বন্ধ করে
আমরা কোথায় ঘুমবো যখন আমাদের বাবা যাবে মরে

কার কাছে ভাত চাইবো আমরা যত্ন চাইবো কার
কে পারবে রুটি আনতে দূষিত এ গুহায় হাগা আর বন্যার
লক্ষ লক্ষ একা বাচ্চা বরষায়
লক্ষ লক্ষ বাবা কাঁদছে যাতনায়
ওদের দুঃখে বেজে ওঠো ওগো পৃথিবীর জিভেরা
কন্ঠস্বরগুলো ছড়িয়ে পড়ুক ভালোবাসার জন্য যা জানিনা আমরা
বৈদু্যতিক যন্ত্রণার ঘন্টাগুলো তীব্র বাজাও
সচেতন আমেরিকার মস্তিস্কে এখবর জানাও


আমরা কতগুলো বাচ্চা যারা হারিয়ে গেছি
কাদের কন্যা এরা যাদের ভূতে পরিণত হতে দেখেছি
যত্ন হারানো কী ওই আমাদের আত্মারা
বেজে ওঠো তীব্র সংগীতেরা৷ আর সাহস থাকলে কাঁদো পারবে যারা

বালির ড্রেন খড় দিয়ে ছাওয়া চাল পাশে মাটিতে কান্নার রোল ওঠে
বড় বড় পাইপের মধ্যে ঘুম ভিজে গু ভর্তি মাঠে
পাম্প কুয়োর পাশে অপেক্ষায়, এ পৃথিবীকে ধিক্কার
যার শিশুরা এখনো উপোশে হাতের ভেতর কুঁকড়ে আছে মা'র
অতীতেও কী আমি এভাবে নিজেকে বুঝিয়েছিলাম?
কি করবো আমি সুনীল কবি আমি বললাম?
কোনো পয়সা না দিয়ে ওদের ছেড়ে এগিয়ে চলেছি?
আপনি বাঁচলে বাপের নাম এভাবে ভেবেছি?
আমাদের শহর আমাদের গাড়ি কি হবে পাত্তা দিয়ে?
খাবার টিকিটে কি কি কিনবো মঙ্গল গ্রহে গিয়ে?
কত লক্ষ নিউইয়র্কে বসে হায়
সান্ধ্য ভোজে রাতের টেবিলে হাড় আর শুয়োরের রোস্ট খায়

কত না লক্ষ বিয়ারের টিন ছুঁড়ে দেওয়া হল
মা মহাসমুদ্রে? তার দাম কতো বল
চুরুট, পেট্রল,রাস্তার পীচ স্বপ্ন গাড়ির
দুর্গন্ধে এ পৃথিবী ভরিয়ে আবছা করে উজ্জ্বল তারাদের ভিড়

তোমার বুকের ভেতর যুদ্ধটা শেষ কর এক দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে
তোমার মানবিক চোখে এসো স্বাদ নিয়ে দেখ চোখের জলে
আমাদের দয়া কর এই লক্ষ লক্ষ ভূতেদের
অভুক্ত এ সংসারে এ টিভি গ্রহের
আরো কত লক্ষ বাচ্চা মরে যাবে এভাবেই
আমাদের ভালো মায়েরা মহান প্রভুকে উপলব্ধি করার আগেই
আরো কত ভালো বাবা ট্যাঙ্ দেবে তৈরি করার জন্য
সশস্ত্র সেনাবাহিনী যারা গর্ব করে বাচ্চাদের মারার জন্য

মায়ার ভেতর দিয়ে কত আত্মা হেঁটে গেল যাতনায়
কত শিশু অলীক বরষায়
কত পরিবার গর্তে ঢোকা চোখ হারিয়ে গিয়েছে
কত মাতামহ মরে ভূত হয়ে গেছে
কত ভালোবাসা রুটিই পেলোনা কোনদিন হায়
কত পিসীমার ছিদ্র মাথায়
কত বোন যার মাথার খুলি মাটিতে পড়েছে
কত পিতামহ জন্মের মতো চুপ করে গেছে

কত বাবা দুঃখ দুর্দশায়
কত পুত্রের কোথাও যাওয়ার নেই নিরুপায়
কত কন্যার নেই কোনো খাদ্যের দলা
কত পিসেমশাইয়ের অসুস্থ পা ফোলা

লক্ষ লক্ষ শিশু যাতনায়
লক্ষ লক্ষ মা বরষায়
লক্ষ লক্ষ ভাই দুঃখ দুর্দশায়
লক্ষ লক্ষ বাচ্চার কোথাও যাওয়ার নেই নিরুপায়